Home / নোটিশ / ভাগ্য খুলছে ৩৪৪ শিক্ষকের

ভাগ্য খুলছে ৩৪৪ শিক্ষকের

ভাগ্য খুলছে ৩৪৪ শিক্ষকের

 

কিছুদিন আগে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের সহকারী শিক্ষক পদে যোগ দিয়ে নিয়মিত পাঠদান করা ৩৪৪ জন শিক্ষক হয়রানিতে পড়েছিলেন। জানা গেছে, এমপিওর জন্য তারা শিক্ষা অধিদপ্তরে যোগযোগ করলে বলা হয় এনটিআরসিএতে যেতে। আবার এনটিআরসিএতে গেলে সেখানকার কর্তারা সোজা দেখিয়ে দেন শিক্ষা অধিদপ্তরকে।

 

এমতাবস্থায় দুই অফিসে যোগাযোগ করে হয়রান হচ্ছিলেন ৩৪৪ শিক্ষক। এবার তাদের ভাগ্য খুলছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ প্রকাশিত গণবিজ্ঞপ্তির পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বরে নিয়োগ সুপারিশ পেয়েছেন তারা। নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগদান করে পাঠদান শুরু করলেও এমপিও পাচ্ছিলেন না তারা।

 

অনুসন্ধানে জানা যায়, ৬ মাসের ডিপ্লোমায় যোগদান করায় এসব শিক্ষকের এমপিও আবেদন আঞ্চলিক উপপরিচালকরা ইএমআইএস সেলে অগ্রায়ন করছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। আঞ্চলিক উপপরিচালকদের দাবি ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দের এমপিও নীতিমালায় কম্পিউটার বিষয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের যোগ্যতা পরিবর্তন হওয়ায় আবেদন অগ্রায়ন করা হচ্ছে না।

এদিকে এনটিআরসিএর কর্মকর্তারা জানান, আদালতের নির্দেশে ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দের বিজ্ঞপ্তি অনুসারে নিয়োগ পেয়েছেন এ ৩৪৪ শিক্ষক। তাই তাদের এমপিওর দাবি যৌক্তিক।

 

জানা গেছে, ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দে এনটিআরসিএ প্রকাশিত শিক্ষক নিয়োগের গণবিজ্ঞপ্তি অনুসারে আবেদন করেছিলেন অনেক প্রার্থী। কিন্তু আইনি জটিলতায় আটকে যায় তাদের নিয়োগ সুপারিশ। জটিলতা নিরসন হলে গত ডিসেম্বরে ১০৯৫ জনকে বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার বিষয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের সুপারিশ করে এনটিআরসিএ। এর মধ্যে ১০৪৭ জনকে সুপারিশপত্র দেয়া হয়। তবে তাদের মধ্য থেকে ৩৪৪ জন প্রার্থী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার বিষয়ের সহকারী শিক্ষক পদে যোগদান করেন বলে জানা গেছে। তারা ৬ মাসের ডিপ্লোমা ডিগ্রি নিয়ে কম্পিউটার বিষয়ের সহকারী শিক্ষক পদে যোগদান করেছেন।

 

২০১০ খ্রিষ্টাব্দে জারি করা এমপিও নীতিমালা ও জনবল কাঠামোতে ৬ মাসের ডিপ্লোমায় কম্পিউটার শিক্ষক পদে যোগদানের সুযোগ ছিল। কিন্তু ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দের জারি করা হয় নতুন এমপিও নীতিমালা ও জনবল কাঠামো। নতুন সেই এমপিও নীতিমালায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে কম্পিউটার বিজ্ঞান বা কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং এ স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি অথবা বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড হতে ৩ বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা-ইন-কম্পিউটার সায়েন্স বা সমমান শিক্ষাগত যোগ্যতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

 

নিয়োগপ্রাপ্তদের দাবি নীতিমালা জারির আগেই প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুসারে আবেদন করে নিয়োগ পেয়েছেন তারা। কিন্তু এমপিও পাচ্ছেন না।

ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলার পশ্চিম ছিটকী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে যোগদান করেছেন মিরা বিশ্বাস। তার অভিযোগ, বরিশালের আঞ্চলিক উপপরিচালক তার এমপিও আবেদন এএমআইএস সেলে অগ্রায়ন করছেন না।

 

তিনি আরও জানান, নতুন এমপিও নীতিমালায় যোগ্যতার পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু আমরা ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দে আবেদন করেছি। আইনি জটিলতায় আমাদের নিয়োগ সুপারিশ বিলম্বিত হয়েছে। তাই নতুন নীতিমালায় আমরা এমপিও পাচ্ছি না।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয় সূত্র জানায়, যারা নতুন এমপিও নীতিমালা জারি হবার পর যোগদান করেছে, তাদের আবেদনগুলো অগ্রায়ন করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তরের সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রয়োজন।

 

এনটিআরসিএর কর্মকর্তারা জানান, আইনি জটিলতা থাকায় ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরে নিয়োগের সুপারিশে দেরি হয়েছে। আদালতের নির্দেশে ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। সেই হিসাবে তাদের নিয়োগ ও এমপিও সংক্রান্ত বিষয়টি ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দের বিধান অনুযায়ী যৌক্তিক। তবে এমপিও দেবে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনটিআরসিএর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের সাথে আমাদের কথা হয়েছে। এ জটিলতা নিরসনে খুব শিগগিরই শিক্ষা অধিদপ্তরকে লিখিতভাবে বিষয়টি জানানো হবে।

 

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *