Home / চাকুরীর প্রস্তুতি / ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি

ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি

ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি

 

চাকরির যত ক্ষেত্র রয়েছে, তার মধ্যে বিসিএসের পরে শিক্ষার্থীদের প্রথম পছন্দ থাকে ব্যাংক ক্ষেত্রটি। সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকগুলো প্রায়ই বিজ্ঞপ্তি দিয়ে লোকবল নিয়োগ দিচ্ছে। এক্ষেত্রে যারা আগে থেকে নির্দিষ্ট ব্যাংক সম্পর্কে জেনে এবং প্রশ্নপদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা নিয়ে থাকেন, তারা একধাপ এগিয়ে থাকেন।

 

সাধারণত প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি পরীক্ষাই পৃথক পৃথকভাবে হয়ে থাকে। প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়োগ প্রক্রিয়াও হয়ে থাকে ভিন্ন। তবে বিসিএস কিংবা ব্যাংকগুলোতে নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রায় একই। পৃথক পৃথক পরীক্ষায় প্রশ্নপদ্ধতিও থাকে একেক প্রতিষ্ঠানের একই রকম।

 

তবে খেয়াল করলে দেখা যাবে, নিয়োগকৃত প্রতিষ্ঠানের আগের প্রশ্নগুলোর সঙ্গে পরবর্তী প্রশ্নের মিল খুব কাছাকাছি। প্রশ্নপদ্ধতিও হয় একই ধরণের। এক্ষেত্রে আগে থেকে ধারণা থাকলে পরীক্ষার মুখোমুখি হওয়া যেমন সহজ হয়, তেমনি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতেও সাহজ যোগায়। ব্যাংকগুলোর নিয়োগ পরীক্ষার পশ্নপদ্ধতি কেমন হয়? তা নিয়ে জেনে নেয়া যাক

 

প্রশ্নপদ্ধতি কেমন হয়?

বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত, বিশেষায়িত ও বেসরকারি ব্যাংকগুলোর বিগত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের লিখিত পরীক্ষায় সামান্য পার্থক্য রয়েছে। তবে নিয়োগদাতাদের ওপরও প্রশ্নের ধরণ নির্ভর করে। সাধারণত ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করে থাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউট (আইবিএ), ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) বা এ ধরনের কোনো প্রতিষ্ঠান।

 

ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষায় সাধারণত প্রশ্ন হয় ১০০ নম্বরের। অধিকাংশ পরীক্ষার প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, প্রশ্নপত্র দুটি অংশে ভাগ করা থাকে। প্রথম অংশ নৈর্ব্যক্তিক এবং দ্বিতীয় অংশ রচনামূলক হয়ে থাকে। পরীক্ষার সময় এক থেকে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত হতে পারে।

 

পরীক্ষায় কি কি বিষয়ে প্রশ্ন আসতে পারে?

বিভিন্ন ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষায় সাধারণত বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সাধারণ জ্ঞান (বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক প্রসঙ্গ) বিষয় থেকে প্রশ্ন হয়ে থাকে। এছাড়া গাণিতিক যুক্তি, মানসিক দক্ষতা, কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি, অর্থনীতি, ফাইনান্স ও ব্যাংকিং ইত্যাদি বিষয় থেকেও প্রশ্ন হতে পারে। কোনো কোনো ব্যাংকের ক্ষেত্রে চার-পাঁচটি বিষয়ই থাকে।

 

আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে তিনটি বিষয় থেকে প্রশ্ন হতে পারে। প্রস্তুতি নেওয়ার সময় আপনাকে সবকটি বিষয়েই জানা থাকা ভালো। সার্বিক প্রস্তুতি থাকলে পরীক্ষার প্রশ্ন যেমনই হোক না কেন, আপনি ভালো করতে পারবেন।

 

পরীক্ষায় বাংলা থেকে কেমন প্রশ্ন হয়?

সরকারি ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে সাধারণত বাংলা বিষয় থেকে প্রশ্ন হয়। বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে দু’ একটি বাদে বাংলায় প্রশ্ন হয় না বললেই চলে। বাংলায় নৈর্ব্যক্তিক ও বর্ণনামূলক দুটি অংশ থেকেই প্রশ্ন হতে পারে। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, ব্যাকরণ, রচনা, অনুচ্ছেদ ইত্যাদি থেকে প্রশ্ন হয়।

 

ভাষা ও সাহিত্যে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস-সম্পর্কিত গ্রন্থ ও গ্রন্থকার, বিশিষ্ট সাহিত্যিকদের প্রথম রচনা, সাহিত্যিকদের প্রকৃত নাম, উপাধি ও ছদ্মনাম, রচনা ও রচনা-প্রকৃতি থেকে প্রশ্ন হতে পারে। ব্যাকরণে শব্দ, বাক্য, সন্ধিবিচ্ছেদ, প্রকৃতি ও প্রত্যয় নির্ণয়, সমাস নির্ণয়, কারক ও বিভক্তি, বিপরীত শব্দ, সর্মাথক শব্দ, প্রতিশব্দ, দেশী-বিদেশী শব্দ, শুদ্ধিকরণ, এক কথায় প্রকাশ, বাগধারা, বাংলা অনুবাদ প্রভৃতি থেকে নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্ন থাকতে পারে। আর রচনামূলক অংশে সমসাময়িক কোনো বিষয়ে অনুচ্ছেদ বা রচনা লিখতে বলা হতে পারে।

 

ইংরেজির গুরুত্ব সব ব্যাংকের পরীক্ষাই-ই

ব্যাংকের সব নিয়োগ পরীক্ষাতেই সাধারণত ইংরেজি বিষয় থেকে প্রশ্ন হয়ে থাকে। তাই প্রস্তুতির সময়ই বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে ইংরেজি। বিশেষ করে Parts of Speech, Voice, Narration, Phrase and Idioms, Correction, Tense, Number, Gender, Person, Completing Sentence, Correct Spelling, Synonym, Antonym, Analogy, Parallelism প্রভৃতি ভালোভাবে শিখতে হবে।

 

এছাড়া বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম ও রচয়িতা, কবি-সাহিত্যিকদের জীবনী ও সৃষ্টিকর্ম, বিভিন্ন কবিতা, গল্প, উপন্যাস ও নাটকের চরিত্র ও বিশেষ উক্তিগুলো সম্পর্কেও ধারণা রাখতে হবে। সেই সাথে রচনামূলক অংশে সমসাময়িক কোনো বিষয়ে অনুচ্ছেদ বা রচনা লিখতে বলা হতে পারে।

 

গণিতে জোর দিতে হবে বেশি

গণিতের প্রশ্ন একটু জটিল প্রকৃতির হয়। আর প্রায় সব ব্যাংকের ক্ষেত্রেই অংকগুলো আসে ইংরেজিতে। এর চেয়েও বড় ব্যাপার হচ্ছে যেটুকু সময় পাওয়া যায়, তাতে সব নৈর্ব্যক্তিক বা রচনামূলক প্রশ্নের উত্তর দেওয়া কঠিন। এ জন্য ব্যাপক অনুশীলন দরকার। নিয়মিত অঙ্ক করার অভ্যাস রাখতে হবে।

 

পাটিগণিত, বীজগণিত ও জ্যামিতি যেকোনো অংশ থেকে প্রশ্ন হতে পারে। সাধারণ অনুশীলনের জন্য আপনি ল.সা.গু. ও গ.সা.গু., ঐকিক নিয়ম, অনুপাত, সমানুপাত, অংশীদারি কারবার, লাভ ও ক্ষতি, সুদকষা, গড়, শতকরা, ক্ষেত্রফল ও পরিমাপ ইত্যাদি থেকে প্রশ্ন আসতে পারে। গণিতের উত্তর দেওয়ার সময় মাথা অবশ্যই ঠাণ্ডা রাখতে হবে। কারণ সামান্য ভুলে বড় ক্ষতি হয়ে যায়।

 

অ্যানালিটিক্যাল অ্যাবিলিটি, পাজলস, ডাটা সাফিশিয়েন্সি

ব্যাংকে নিয়োগ পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীর বুদ্ধিমত্তা, বিশ্লেষণী ক্ষমতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে বেশ কিছু প্রশ্ন করা হয়। নিজের বুদ্ধিমত্তা ও বিশ্লেষণী ক্ষমতা প্রয়োগ করে বিষয়গুলোর উত্তর করতে হবে। বিষয়টি বেশ কঠিন। তবে জিম্যাট, ব্যারনস জিম্যাট কিংবা আইকিউ টেস্টের যেকোনা বই দেখে নিয়মিত চর্চা করলে প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়া সহজ হয়

 

দৈনন্দিন বিজ্ঞান ও কম্পিউটার বিষয়ে যে ধরণের প্রশ্ন

সব ব্যাংকের পরীক্ষায় বেশ কিছু প্রশ্ন করা হয় দৈনন্দিন বিজ্ঞান ও কম্পিউটার সম্পর্কিত তথ্যসহ বিজ্ঞানের বিভিন্ন আবিষ্কার ও আবিষ্কারক, দৈনন্দিন বিজ্ঞান, তাপ, আলো, বিদ্যুৎ, শব্দ, , মানবদেহ, উদ্ভিদ ও প্রাণিবিদ্যা, খাদ্য ও পুষ্টি, চিকিৎসাবিজ্ঞান, মহাকাশবিজ্ঞান, পরিবেশবিজ্ঞান, ভূগোল, প্রাকৃতিক ভূগোল, খনিজ ও মৃত্তিকা, বায়ুমণ্ডল, যন্ত্রবিদ্যা এবং ইলেকট্রনিক্স সম্পর্কিত তথ্য জানা থাকতে হবে।

 

সাধারণ জ্ঞান

এ বিষয়ে নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নই হয়ে থাকে বেশি। রচনামূলক অংশে সাধারণ জ্ঞান থাকে না। সাধারণ জ্ঞানের আবার দুটি আলাদা ভাগ আছে। বাংলাদেশ বিষয়াবলী এবং আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী। পরীক্ষায় ভালো করতে চাইলে উভয় অংশই গুরুত্ব দিয়ে পড়তে হবে। তাই প্রস্তুতিটা হতে হবে ব্যাপক। ব্যাংকের ক্ষেত্রে সাধারণত সামপ্রতিক সাধারণ জ্ঞান ভিত্তিক প্রশ্ন বেশী হয়ে থাকে। তাই সামপ্রতিক সাধারণ জ্ঞানের জন্য নিয়মিত পত্রপত্রিকা পড়া ও রেডিও-টেলিভিশনের খবর শোনা জরুরি।

 

বিগত বছরগুলোর বিভিন্ন ব্যাংকের পরীক্ষা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বাংলাদেশ পরিচিতি, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, সংবিধান, অর্থনীতি, সংস্কৃতি, শিক্ষা, প্রশাসন, সম্পদ, নদ-নদী, জনসংখ্যা, শিল্পকারখানা, ভৌগোলিক অবস্থান ইত্যাদি থেকে প্রশ্ন হতে পারে। ঠিক একই রকম আন্তর্জাতিক বিষয়াবলীর ক্ষেত্রেও।

 

ইসলামিক জ্ঞান

ইসলামী শরীয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর নিয়োগ পরীক্ষায় প্রায় ২৫-৫০ নম্বরের প্রশ্ন করা হয় ইসলামী জ্ঞানবিষয়ক। সে ক্ষেত্রে ইসলামী শরীয়াহভিত্তিক ব্যাংকে যারা চাকরি করতে চান তাদের অন্যান্য বিষয়গুলোর সঙ্গে ইসলামী জ্ঞানও রাখতে হবে।

 

বিশেষ করে আকাইদ, শরীয়ত, আখলাক, পবিত্রতা, নবী-রাসূল এবং সাহাবীদের জীবনী, ইসলামী সমাজব্যবস্থা, রাষ্ট্রীয়ব্যবস্থা, ইসলামী অর্থব্যবস্থা, ইসলামী গ্রন্থ ও গ্রন্থকার, কোরআন ও হাদিস, মুসলিম কবি, দার্শনিক ও বিজ্ঞানীদের জীবনী ও কর্ম, জিহাদ, আন্দোলন ও সংগঠন প্রভৃতি সম্পর্কে জ্ঞান রাখতে হবে।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *