Home / সাম্প্রতিক বিষয় / ক্ষুদ্র ব্যবসা: সুবিধা, অসুবিধা ও সাফল্যের কারণ

ক্ষুদ্র ব্যবসা: সুবিধা, অসুবিধা ও সাফল্যের কারণ

ক্ষুদ্র ব্যবসা: সুবিধা, অসুবিধা ও সাফল্যের কারণ

 

ক্ষুদ্র ব্যবসা হচ্ছে এমন এক ধরণের ব্যবসা, যেখানে অল্প পুঁজি ও শ্রমিক নিয়ে ব্যবসা গঠন ও পরিচালনা করা হয়। আধুনিক ব্যবসা জগতের দিকে তাকালে দেখা যায় যে, বৃহৎ পুঁজির ব্যবসা থেকে ক্ষুদ্র ব্যবসাতেই অনেক লাভ ও সুবিধা রয়েছে। তাছাড়া ক্ষুদ্র ব্যবসাতে লাভের পাশপাশি সাফল্যেরও অনেক কারণ রয়েছে। চলুন সেগুলো নিয়ে আলোচনা করা যাক।

ক্ষুদ্র ব্যবসার সুবিধা

ক্ষুদ্র ব্যবসা গঠন করা সহজ। যেকোনো ব্যক্তিই মাত্র কয়েক হাজার টাকা পুঁজি নিয়েই নিজের ক্ষুদ্র ব্যবসা গঠন ও পরিচালনা করতে পারে। ক্ষুদ্র ব্যবসায় মাত্র ৫০০০ টাকা পুঁজিই যথেষ্ট। অনেক ধরণের ব্যবসা রয়েছে যেখানে মাত্র পাঁচ হাজার টাকা পুঁজিতেই অনেক কিছু করা সম্ভব হয়ে থাকে। ক্ষুদ্র ব্যবসায় আইনগত তেমন জটিলতা দেখা যায় না। ক্ষুদ্র ব্যবসায় যদিও এক মালিকানাভিত্তিক হয়ে থাকে, তবে বেশ কয়েকজন মিলেও পুঁজির পরিমাণ কিছুটা বাড়িয়ে দিয়েও বেশ ভালো ভাবেই ক্ষুদ্র ব্যবসা চালানো যায়। ক্ষুদ্র ব্যবসায় সাধারণত পাঁচজনের বেশি মালিক থাকে না। যার ফলে যেকোনো সময় যেকোনো ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রেও ততটা সমস্যায় পড়তে হয় না।

 

ক্রেতাই হচ্ছেন একটি ব্যবসার মূল। ক্রেতা না থাকলে ব্যবসার কোনো অস্তিত্ব থাকা সম্ভব নয়। বড় ব্যবসার ক্ষেত্রে ক্রেতার চিন্তাচেতনা বা স্বাধীনতা কিংবা ক্রেতার সিদ্ধান্ত বা পছন্দের দাম প্রায় নেই বললেই চলে। কিন্তু ক্ষুদ্র ব্যবসায় ক্রেতাকে বেশ ভালোভাবেই সন্তুষ্ট করা যায়। ক্রেতার রুচির সাথে মিলিয়ে পণ্যেও পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়। ক্ষুদ্র ব্যবসায় মালিকানা পক্ষের যেকোনো সমস্যা মাত্র কয়েকজনে মিলেই সমাধান করা যায়। অন্যদিক থেকে দেখলে ক্ষুদ্র ব্যবসায় ততটা সমস্যাও হয় না। ক্ষুদ্র ব্যবসার আরেকটি বিশেষ সুবিধা হচ্ছে, ক্ষুদ্র ব্যবসায় ক্রেতাদের সাথে বিক্রেতার সরাসরি যোগাযোগ করা সম্ভব হয়। যার ফলে ক্রেতাদের সাথে সুসম্পর্কও বজায় রাখা যায়।

 

ক্ষুদ্র ব্যবসায় শ্রমিক ও মালিকের মাঝেও ততটা দুরত্ব থাকে না। যার ফলে মালিকপক্ষের সাথে শ্রমিকের মধ্যকার সম্পর্ক বেশ ভালোই হয়ে থাকে। ক্ষুদ্র ব্যবসায় মার্কেটিং থেকে শুরু করে অনেক কাজেই মালিকপক্ষকেই নাক গলাতে হয়, যার ফলে কাজ করার পাশাপাশি মালিকের নিজেরও জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধি পায়। ক্ষুদ্র ব্যবসায় স্থানজনিত কোনো সমস্যাও থাকে না। কারণ যেকোনো জায়গাতেই ক্ষুদ্র ব্যবসা গঠন করা যায়। একইসাথে ক্ষুদ্র ব্যবসা স্থানান্তরের সময়েও ততটা সমস্যা দেখা যায় না।

 

ক্ষুদ্র ব্যবসার অসুবিধা

ক্ষুদ্র ব্যবসায় পুঁজি কম থাকে বলে অনেক সময় অর্থের স্বল্পতার কারণে অনেক কাজই করা সম্ভব হয় না। ক্ষুদ্র ব্যবসার অনেকটাই মালিকের অস্তিত্বের উপর নির্ভরশীল। যেকোনো কারণে মালিকের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গেলে ব্যবসাও নষ্ট হয়ে যাবে। ক্ষুদ্র ব্যবসায় মালিককেই ব্যবসার যেকোনো ধরণের দায় বহন করতে হয়। সেক্ষেত্রে পণ্যের গোলযোগ কিংবা যেকোনো সমস্যায় মালিকই সম্পূর্ণভাবে দায়ভার গ্রহণ করবে। মাঝে মাঝেই মার্কেটিং কিংবা যেকোনো ধরণের সমস্যার ক্ষেত্রে অর্থের সংকট পড়তে পারে। কিন্তু ক্ষুদ্র ব্যবসায় পুঁজি কম থাকার কারণে সেটা সমাধান করাটাও কষ্টকর হয়ে পড়ে।

 

ক্ষুদ্র ব্যবসায় কর্মচারী কম থাকার কারণে দক্ষতারও অভাব হতে পারে। এতে করে সময়ে সঠিক মানুষ পাওয়া খুবই মুশকিল হয়ে দাঁড়ায়। ক্ষুদ্র ব্যবসার আয়তন ছোটো হওয়ার কারণে শ্রমিকরা সঠিক ও পর্যাপ্ত পরিমাণ বেতন পান না। যার ফলে তাদের আর্থিক সংকটে পড়তে হতে পারে। ক্ষুদ্র ব্যবসায় মালিকপক্ষ যদি খামখেয়ালিপনা করে তাহলে এর জন্য ভোগান্তিতে পড়তে হয় শ্রমিক ও ক্রেতাদের।

 

ক্ষুদ্র ব্যবসায় সফলতা পাওয়ার কারণ

ক্ষুদ্র ব্যবসা গঠন করা একেবারেই সহজ কাজ। এটা গঠন কিংবা পরিচালনার জন্য কোনো ধরণের আইনি সাহায্য নিতে হয় না আবার কোনো সমস্যাতেও পড়তে হয় না। তাই জীবিকা অর্জনের জন্য এটা একেবারে উপযুক্ত একটি কাজ হিসেবে বেছে নেয়া যায়। স্বল্প পুঁজিতে ব্যবসা করা যায় বলে এমন অনেক ব্যবসাই ক্ষুব সহজেই আয়ত্তে চলে আসে। যার ফলে সহজেই সফলতার মুখ দেখা যায়। এমন কিছু স্বল্প মূলধনের ব্যবসা হচ্ছে, মুদি দোকান, সেলুন, লন্ড্রি ইত্যাদি। ক্ষুদ্র ব্যবসায় বাজারজাতকরণেও ততটা ঝামেলা পোহাতে হয় না। স্থানীয় ব্যবসা হলে সেগুলো উৎপাদনের চিন্তাও করতে হয় না। অনেক মানুষই আছে যারা অন্যের ছায়ায় কাজ করাকে পরাধীনতা মনে করে। তাদের জন্য ক্ষুদ্র ব্যবসা একেবারে উপযুক্ত একটি সমাধান।

 

আবার অনেক মানুষই আছেন, যারা ব্যবসা সংক্রান্ত ঝামেলায় নিজের শ্রমিকদের উপর বিশ্বাস রাখতে পারেন না। তাদের জন্য ক্ষুদ্র ব্যবসা উপযুক্ত। ব্যবসা ছোটো পরিসরে হওয়ায় তদারকিতেও কোনো সমস্যা থাকছে না। অনেকেই দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে পারদর্শী নন। ক্ষুদ্র ব্যবসায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে সমস্যার সমাধান করা যায়। যার ফলে খুব সহজেই যেকোনো ব্যাপারে মালিক নিজেও সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। বড় ব্যবসায় কাজের পরিধিটাও বড় থাকে, যার ফলে কাজ করতে গিয়ে অনেক সময়েই মালিক ও শ্রমিক উভয়েই হাঁপিয়ে উঠতে পারেন। কিন্তু ক্ষুদ্র ব্যবসায় কাজের পরিধি ছোটো থাকার কারণে হাঁপিয়ে উঠার কোনো চিন্তা নেই।

 

ক্ষুদ্র ব্যবসায় মালিকের সরাসরি তত্ত্বাবধানেই সবকিছু হয়ে থাকে। যার ফলে ভালো নেটওয়ার্ক তৈরি করা সম্ভব হয়। আর একইসাথে ব্যবসায় সাফল্যও নিশ্চিত হয়। ক্ষুদ্র ব্যবসায় ক্রেতাদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করাটাও সহজ হয়। যার ফলে ক্রেতাদের মন জয় করতে ততটা বেগ পেতে হয় না। যা স্বাভাবিকভাবেই একটা ব্যবসাকে সাফল্যের দিকে নিয়ে যায়। ক্ষুদ্র ব্যবসা থেকে ব্যবসার পরিসর যেকোনো সময়েই বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়। এছাড়াও পণ্যের চাহিদা মিটিয়ে ক্রেতাদের সিদ্ধান্তেও মনোনিবেশ করা যায়।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *