Home / টিপস / চাকরির সাক্ষাৎকার দেওয়ার ঠিক পর মুহূর্তে করণীয়

চাকরির সাক্ষাৎকার দেওয়ার ঠিক পর মুহূর্তে করণীয়

চাকরির সাক্ষাৎকার দেওয়ার ঠিক পর মুহূর্তে করণীয়

আপনি দীর্ঘদিন ধরে একটা বড় চাকরির সুযোগের প্রতিক্ষায় আছেন। আজ সেই সুযোগ এসেছে। স্বপ্নের চাকরি পাওয়ার জন্য মাত্র সাক্ষাৎকার দিয়ে বের হলেন। নিশ্চয়ই বন্ধু বান্ধব এবং পরিবারের সদস্যরা আপনার চাকরির সাক্ষাৎকার সম্বন্ধে জানতে চাইবে? ইন্টারভিউ বোর্ডের ঘটনা বন্ধুদের বলা ছাড়া এখন স্বপ্নের চাকরি নিশ্চিত করতে আপনার আর কী কী করনীয়?

 

অধিকাংশ চাকরিপ্রার্থী মনে করে, বায়োডাটা জমা দেওয়া এবং সাক্ষাৎকার দেওয়ার পর আর কিছুই করার থাকে না। এরপর যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার তা নিয়োগকর্তারা নিয়ে থাকেন।

কিন্তু না, আপনার এই ধারণা ভুল। স্বপ্নের চাকরি নিশ্চিত করতে সাক্ষাৎকার দেওয়ার পর আরো কিছু করণীয় আছে। আজকের নিবন্ধে চাকরির সাক্ষাৎকার দেওয়ার পর এমন কিছু করণীয় সম্বন্ধে আলোচনা করা হলো, যা আপনার চাকরি পাওয়ার সম্ভাব্যতা আরো বৃদ্ধি করবে।

স্বস্তি বোধ করা

চাকরি নিশ্চিত না হলেও নিয়োগকারীরা আপনার বায়োডাটা মূল্যায়ন করেছে এবং আপনার সাক্ষাৎকার নিয়েছে, এই কারণে আপনার মধ্যে এক ধরনের স্বস্তি কাজ করাটাই স্বাভাবিক। স্বস্তি বোধ করুন। নিঃসন্দেহে এই স্বস্তি আপনার মানসিক প্রশান্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কোনোভাবেই এটাকে চূড়ান্ত বিজয় ভাববেন না।

সফলভাবে সাক্ষাৎকার দিতে পারলেই আত্মবিশ্বাসের কারণে অনেকে চাকরি পাওয়ার ব্যাপারে উচ্ছ্বসিত থাকেন। এই উচ্ছ্বাস কমিয়ে বরং, সম্পূর্ণ সাক্ষাৎকারের সময়টা পুনঃমূল্যায়ন করার চেষ্টা করুন।

যেকোনো উচ্চপদে চাকরির জন্য সাক্ষাৎকার দেওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব ওই সময়ের স্মৃতি মনে থাকা অবস্থায় সম্পূর্ণ ঘটনা পুনর্মূল্যায়ন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাক্ষাৎকারের প্রতিটি ঘটনা এবং পদক্ষেপ মনে করুন এবং তা ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করুন। তাহলে এখান থেকেই পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করতে সহজ হবে।

সাক্ষাৎকারে কে কে উপস্থিত ছিলেন?

সাধারণত সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় চাকরিপ্রার্থীকে নিয়োগকারীদের প্রতি মনোযোগী থাকতে হয়। তাই সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানের বিশেষ কোনো বিষয়ের নোট নেওয়ার সুযোগ হয় না। সুতরাং সাক্ষাৎকার শেষ করার পর যত দ্রুত সম্ভব উপস্থিত সাক্ষাৎকার গ্রহণকারীদের বিস্তারিত তথ্য লিখে ফেলুন। তাদের নাম, পদমর্যাদা এবং তাদের ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য। এমনকি সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানে তাদের সাথে আপনার কথোপকথন ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোও লিখে রাখুন।

সাক্ষাৎকার গ্রহণকারীদের তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে আপনি সম্ভাব্য কর্মপরিবেশের সার্বিক চিত্র উপলব্ধি করতে পারবেন। এই চাকরি না পেলেও উক্ত ব্যক্তিদের তথ্য ভবিষ্যতের জন্য আপনাকে আরো প্রস্তুত করবে। এমনকি অন্য কোনো ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখবে।

কোম্পানি এবং সম্ভাব্য ভূমিকা সম্বন্ধে আপনার উপলব্ধি কী?

সাক্ষাৎকার দেওয়ার পর পরবর্তী ডাক পাওয়ার ব্যাপারে নিশ্চয়ই আপনি উদগ্রীব? আবার উক্ত প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি হতে চলেছে ভেবে আপনি উত্তেজিত। আপনার এ জাতীয় সার্বিক অনুভূতি লিখে ফেলুন।

কেননা সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে আপনি নিজের সম্বন্ধে যত তথ্য নিয়োগকারীদের জানিয়েছেন নিশ্চয়ই তার বিপরীতে কোম্পানি সম্বন্ধে কিছু না কিছু তথ্য জেনেছেন। সাক্ষাৎকার শেষে উক্ত কোম্পানি এবং সেখানে আপনার সম্ভাব্য ভূমিকা সম্বন্ধে আর কোনো প্রশ্ন আপনার মাথায় আছে কি? থাকলে সবকিছু কাগজে লিখে ফেলুন।

সাক্ষাৎকার নিয়ে এখন আপনার অনুভূতি কী?

চাকরির সাক্ষাৎকার দিলেই চাকরি পাওয়া যায় এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। তাছাড়া প্রতিটি চাকরির সাক্ষাৎকার পরবর্তী চাকরির সাক্ষাৎকারের জন্য আপনাকে প্রস্তুত করে। সুতরাং প্রতিটি সাক্ষাৎকারের মধ্য দিয়ে নিজের উপস্থাপন এবং প্রকাশ দক্ষতা উন্নত করার চেষ্টা করুন।

সাক্ষাৎকার দেওয়ার পর প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর নতুন করে ভাবুন। একই প্রশ্ন এখন করা হলে আপনি কি আগের উত্তরটাই দিতেন, নাকি ভিন্ন কিছু বলতেন? এভাবে নিজেকে প্রশ্ন করে সাক্ষাৎকারের সময় সৃষ্টি হওয়া ভুল এবং সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করার চেষ্টা করুন।

সাক্ষাৎকার গ্রহীতার পরবর্তী পদক্ষেপ বিশ্লেষণ

সাক্ষাৎকার গ্রহণের সময় সব আবেদনকারীকে একই প্রশ্ন করা এবং নির্দিষ্ট সময় জুড়ে সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয় না। আবেদনকারীর দক্ষতা, যোগ্যতা এবং উপস্থাপনশৈলীর উপর নির্ভর করে সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারিত হয়। অর্থাৎ অযোগ্য আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার খুব অল্প সময়ে শেষ হয়ে যায়, বিপরীতে অপেক্ষাকৃত যোগ্য আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার দীর্ঘ সময় ধরে নেওয়া হয়।

সুতরাং লক্ষ্য করুন, নিয়োগকারী কখন আপনাকে পরবর্তী পদক্ষেপ সম্বন্ধে জানানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিদায় নিতে চায়। নিজের সদ্য শেষ হওয়া সাক্ষাৎকার বিশ্লেষণ করুন এবং অনুসন্ধান করে দেখুন বিদায় দেওয়ার আগে নিয়োগকারী আপনাকে সম্ভাব্য সকল প্রশ্ন জিজ্ঞেস করেছে কিনা। নিয়োগকারীর এই আচরণের উপর আপনার চাকরি পাওয়ার সম্ভাব্যতা অনেকাংশে নির্ভর করে।

কেন তারা আপনাকে নিয়োগ দেবেন?

সাক্ষাৎকার দেওয়ার মধ্য দিয়ে আপনি কোম্পানির উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের সাথে কথা বলার সুযোগ পেয়েছেন। তাদের চাহিদা এবং লক্ষ্য উদ্দেশ্য সম্বন্ধে জানতে পেরেছেন।

এখন নিজেকে মূল্যায়ন করুন। সাক্ষাৎকারের সময় আপনার অভিজ্ঞতা এবং তাদের অভিব্যক্তি আপনার জন্য সবুজ সংকেত বহন করে কিনা, তা যাচাই করুন। সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানে তাদের প্রত্যাশার বিপরীতে আপনার দক্ষতা ও যোগ্যতা মূল্যায়ন করুন এবং নিয়োগকর্তার আসনে নিজেকে বসিয়ে বিবেচনা করুন, আপনি আপনাকে নিয়োগ দিতে চান কিনা।

যেকোনো চাকরির সাক্ষাৎকার দেওয়ার পর এই বিশ্লেষণ এবং অভিজ্ঞতা উক্ত চাকরি পাওয়ার ব্যাপারে আপনার সম্ভাব্যতা নিরূপণ করতে সহযোগিতা করবে। এমনকি উক্ত চাকরি না পেলেও পরবর্তী চাকরির সাক্ষাৎকারের জন্য আপনাকে আরো বেশি প্রস্তুত করবে।

সুতরাং প্রতিটি চাকরির সাক্ষাৎকার শেষে এভাবে সবকিছু মূল্যায়ন করুন এবং চাকরি পাওয়ার সম্ভাব্যতা যাচাই করে পরবর্তী পদক্ষেপ নিন। সম্পূর্ণ সাক্ষাৎকার বিশ্লেষণ করে যদি আপনার মনে হয় আপনি নিয়োগকারীদের চোখে যোগ্য ব্যক্তি না, তাহলে পরবর্তী চাকরির জন্য প্রস্তুতি নিন। আর যদি মনে হয় নিয়োগকারীরা আপনার সাক্ষাৎ পেয়ে খুশি হয়েছে, তাহলে তাদের পরবর্তী ডাকের জন্য অপেক্ষা করুন।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

About Rabaya Bosri

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *