Home / টিপস / নারীদের জন্য কর্মক্ষেত্রে উৎপীড়ন প্রতিরোধ করার কিছু কার্যকর কৌশল

নারীদের জন্য কর্মক্ষেত্রে উৎপীড়ন প্রতিরোধ করার কিছু কার্যকর কৌশল

নারীদের জন্য কর্মক্ষেত্রে উৎপীড়ন প্রতিরোধ করার কিছু কার্যকর কৌশল

কর্মক্ষেত্রে নারী নিগ্রহ, উৎপীড়ন বা নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ বর্তমান সময়ে খুব সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে ৬৬ শতাংশ নারী কর্মক্ষেত্রে নিগ্রহের শিকার এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তারা নিগ্রহের শিকার হয় বস বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে। অনেক পুরুষ কর্মীর আচরণ সাধারণ নিগ্রহ বা উৎপীড়নের চেয়েও ভয়াবহ।

এ জাতীয় উৎপীড়ন কর্মক্ষেত্রে খারাপ পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। স্বাভাবিক কাজের গতি এবং মনোযোগ নষ্ট করে। এমনকি গুরুতর মানসিক ও শারীরিক সমস্যা সৃষ্টি করে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নারীরা নিজের আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে পারেন না, ফলে বিমর্ষ হয়ে পড়েন, বিশেষত যখন নিজের বস বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছ থেকে তিনি নিগ্রহের শিকার হন।

কর্মক্ষেত্রে নারী নিগ্রহ চাইলেই বন্ধ করা সম্ভব না। এর জন্য সার্বিক কর্ম পরিবেশ উন্নত করতে হবে। তাছাড়া এই নিগ্রহ বা উৎপীড়ন এড়ানোর জন্য নারীরা বিশেষ কিছু কৌশল অবলম্বন করতে পারেন। আজকের নিবন্ধে এমন কিছু মানসিক ও শারীরিক প্রস্তুতি এবং কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হল যা প্রয়োগ করে কর্মক্ষেত্র নারী নিগ্রহ এড়ানো বা মোকাবেলা করা সম্ভব।

নিজের পরিচয় ভুলবেন না

কর্মক্ষেত্রে পুরুষের সাথে কাজ করার ক্ষেত্রে কখনো নিজের পরিচয় ভুলে যাবেন না। অর্থাৎ পুরুষের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করলেও আপনি যে একজন নারী এবং পুরুষের সাথে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখা উচিত এই কথা কখনো ভুলে যাবেন না। কর্মক্ষেত্রে নিজ দায়িত্বের বাইরে পুরুষ কলিগের সাথে কোনো বিশেষ আলোচনায় জড়াবেন না।

অন্য সাধারণ কর্মীদের মতো আপনিও একজন কর্মী বা কর্মকর্তা। আপনার অনেকগুলো কলিগ বা সহকর্মী আছে এবং আপনি টিমের একজন মেম্বার, কর্মক্ষেত্রে এগুলোই আপনার প্রধান পরিচয়। আপনি একজন সুন্দরী নারী হতে পারেন, কিন্তু তার জন্য কখনো বিশেষ কিছু আশা করবেন না। স্পষ্টভাবে সব সময় কর্মজীবন এবং ব্যক্তিজীবনের মধ্যে সীমারেখা বজায় রাখবেন।বজায় রাখবেন।

কর্মক্ষেত্রে নিজ দায়িত্বের বাইরে কারো সাথে বিশেষভাবে অন্তরঙ্গ হলে পুরুষ সহকর্মী আপনাকে ব্যবহার করার সুযোগ পাবে। সুতরাং এ ব্যাপারে সব সময় সচেতন থাকুন। আপনার সচেতনতার কারণে পুরুষ সহকর্মীরা বুঝবে আপনি একজন নারী এবং আপনাকে বিশেষভাবে তাদের সম্মান দেওয়া উচিত। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা অন্য কোনো কলিগ আপনাকে কোনো বিশেষ ডাক নাম বা বিশেষণ দিলে কোনোভাবেই তা গ্রহণ করবেন না। সবসময় সহকর্মী হিসেবে উপযুক্ত সম্মান আশা করবেন।

তথ্য সংরক্ষণ করুন

নিজেকে সংবরণ এবং সচেতন রাখা সত্ত্বেও যদি কর্মক্ষেত্রে নিগ্রহের শিকার হন, তবে নিগ্রহের ঘটনা, সময়, দিন, তারিখ সব তথ্য লিখে রাখুন। প্রয়োজনে নিজের সাথে বিশেষ রেকর্ডিং ডিভাইস বা ছোট নিরাপত্তা ক্যামেরা রাখতে পারেন। যার মাধ্যমে নিগ্রহের শিকার হলে যেন তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন। ভবিষ্যতে এই তথ্য ওই ব্যক্তিকে সচেতন করা এবং আপনার অবস্থান প্রমাণ করার জন্য কাজ করবে।

এমনকি আপনার নিরাপত্তামূলক কৌশল নিগ্রহকারীকে কৌশলে জানিয় দিন। তাতে সে অধিক সতর্ক হবে এবং আপনার সাথে কথোপকথন, মিথস্ক্রিয়তা ও আচরণের ক্ষেত্রে অধিক যত্নশীল হবে। সুতরাং নিগ্রহ বা উৎপীড়নের ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করে নিজের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন।

 

একজন সঙ্গী খুঁজে বের করুন

কর্মক্ষেত্রে সব সহকর্মী খারাপ না। অনেক সহকর্মীর ভেতর হয়তো গুটিকয়েক মানুষ পাবেন যারা নারীর সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে। এর বাইরে বাকি সহকর্মীরা নিশ্চয়ই ভালো। বাকি সহকর্মীদের মধ্য থেকে এমন একজন সঙ্গী খুঁজে বের করুন যার সাথে আপনার সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতে পারেন। একা কোনো খারাপ পরিস্থিতির বিরুদ্ধে লড়ার চেয়ে কাউকে সাথে নিয়ে লড়লে দ্রুত ফল পাওয়া যায়।

তবে সঙ্গী নির্বাচনের সময় এমন কাউকে খুঁজে বের করুন, যাকে আপনি সত্যি বিশ্বাস করতে পারেন। যে সঙ্গী শুধু মুখের কথা দিয়ে নয়, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সময় আপনার পাশে থেকে সহযোগিতা করবে। নিজে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি আপনার সঙ্গীকেও তথ্য সংগ্রহ করতে বলুন। নিগ্রহ পুরোপুরি বন্ধ করতে বা সমাধান করতে সঙ্গীদের নিয়ে একটি বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা স্থির করুন।

একা মিটিং করা বন্ধ করুন, লিখিত অভিযোগ করুন

প্রথমত নিগ্রহ এড়াতে একা নিগ্রহকারী কর্মী বা বসের সাথে সকল প্রকার মিটিং এবং কথোপকথন এড়িয়ে চলুন। কেননা ভবিষ্যতে আপনার সমস্যা প্রমাণের জন্য সাক্ষী প্রমাণের দরকার হবে। তাছাড়া অন্য কেউ পাশে থাকলে অবমাননাকারী তার আচরণের ক্ষেত্রে আরো সতর্ক হবে।

 

এরপরও নিগ্রহের ঘটনা ঘটলে সকল তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করে, সাক্ষীদের প্রস্তুত রেখে আপনার প্রতিষ্ঠান প্রধান, ম্যানেজার বা এইচআর কর্মকর্তাকে আবেদনের মাধ্যমে নিগ্রহের ঘটনা জানাতে পারেন। অবশ্যই এক্ষেত্রে আবেদনের দুটি কপি প্রস্তুত করবেন। একটি আপনার নিজের জন্য, অন্যটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়ার জন্য। আপনি চাইলে ইমেইলের মাধ্যমেও বিস্তারিত ঘটনা জানাতে পারেন। কর্তৃপক্ষের সাথে সাক্ষাতের সময় সাক্ষী সহকর্মীদের উপস্থিতিও নিশ্চিত করুন।

আপনার আচরণ এবং মনোভাব পরিবর্তন করুন

নিগ্রহের শিকার হলে পরিস্থিতি বুঝে আপনার আচরণ এবং মনোভাব পরিবর্তন করুন। অপ্রত্যাশিতভাবে কখনো রেগে যাবেন না। যতটা সম্ভব শান্তভাবে কথা বলুন এবং জোরালো প্রতিবাদ করুন। কোনো রকম খারাপ পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে চুপিচুপি তাকে শান্ত করার প্রচেষ্টা নিগ্রহকারীকে আরও উস্কে দেয়। তাই আত্মবিশ্বাসের সাথে অল্প বাক্যে উঁচু স্বরে কথা বলুন এবং স্পষ্টভাবে আপনার অবস্থান জানিয়ে দিন।

শারীরিক ভাষায় প্রতিবাদ করুন

কখনো কখনো নারী নিগ্রহের ঘটনা শুধু কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, নিগ্রহকারীরা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করে। সুতরাং নিজের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে শারীরিক ভাষায় প্রতিবাদের প্রস্তুতি রাখুন।

 

তবে কর্মক্ষেত্রে ভুল বোঝাবুঝির ঘটনাও কম ঘটে না। সুতরাং কখনো কর্মক্ষেত্রের কোনো ভুল বোঝাবুঝিকে পুঁজি করে কাউকে শাস্তি দেওয়ার জন্য এইসব কৌশল ব্যবহার করবেন না। মনে রাখবেন, এমন ঘটনা ভবিষ্যতে আপনার সাথেও ঘটতে পারে।

কর্মক্ষেত্রে নারী নিগ্রহের ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ নারীদের প্রতিবাদহীনতা। ভুলে যাবেন না, শান্ত এবং চুপচাপ থাকার অর্থ প্রতিবাদহীন থাকা নয়। সুতরাং নিগ্রহের ঘটনা ঘটলেই দ্রুত প্রতিবাদ করুন এবং নিজের সুরক্ষা নিশ্চিত করুন।

 

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

About Rabaya Bosri

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *